ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন ২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Dhaka Songjog
📢
বিজ্ঞাপন দিন
আপনার ব্যবসা প্রচার করুন
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে দিন
dhakasongjog@gmail.com
ঢাকা | সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন | ২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
📢
বিজ্ঞাপন দিন
আপনার ব্যবসা প্রচার করুন
আপনার বিজ্ঞাপন এখানে দিন
dhakasongjog@gmail.com

ইতিকাফ শুধু ইমামের কাজ নয়, এটি পুরো উম্মাহর দায়িত্ব


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মার্চ ১১, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ন /
ইতিকাফ শুধু ইমামের কাজ নয়, এটি পুরো উম্মাহর দায়িত্ব

ইতিকাফ শুধু ইমামের কাজ নয়, এটি পুরো উম্মাহর দায়িত্ব

মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

রমজান মাসের শেষ দশ দিন শুরু হলেই দেশের মসজিদগুলোতে ইতিকাফ শুরু হয়। অনেক মুসল্লি তখন বলেন—
“আমি ১০ দিন ইতিকাফ করতে পারব না, বাড়িতে অনেক কাজ আছে।”

কিন্তু একই সমাজে যখন একজন ইমাম সাহেব মাসে মাত্র দুইদিন ছুটি চান, তখন অনেকেই বলেন—
“বাড়িতে এত কি কাজ?”

এখানেই আমাদের চিন্তার জায়গা আছে।

ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত। কিন্তু ইসলামে কোথাও বলা হয়নি যে ইতিকাফ শুধু ইমাম বা মসজিদের খাদেমের দায়িত্ব। বরং এটি এমন একটি আমল, যা সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলমানের জন্য।

কোরআনের নির্দেশ

আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকা অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না।”
— সূরা আল-বাকারা: ১৮৭
এই আয়াত প্রমাণ করে যে ইতিকাফ রাসুল (সা.) ও সাহাবাদের যুগ থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিসের বর্ণনা

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন:
“রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তা অব্যাহত রেখেছেন। এরপর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৬

— সহিহ মুসলিম
আরেক হাদিসে এসেছে—

“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতিকাফ করে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন।”
— তাবারানি

আমাদের করণীয়

আমরা যদি নিজেরা বলতে পারি—
“আমার সময় নেই, আমার কাজ আছে।”

তাহলে একজন ইমাম বা খতিব যখন একটু সময় চান, তখন আমাদেরও বোঝা উচিত—
তারও পরিবার আছে, দায়িত্ব আছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজন আছে।

ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা এবং সম্মান।

একটি বাস্তব শিক্ষা

যদি আমরা ১০ দিনের ইতিকাফ করতে না পারি,
তাহলে অন্তত যারা মসজিদে দ্বীনের খেদমত করেন, তাদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি দেখাই।
কারণ—

মসজিদ শুধু ইমামের নয়, এটি পুরো মুসলিম সমাজের দায়িত্ব।

শেষ কথা

রমজানের শেষ দশক আমাদের জন্য লাইলাতুল কদরের সন্ধানের সময়।
এই সময়টাতে আমরা যেন ইবাদত করি, অন্যকে উৎসাহ দিই, এবং যারা মসজিদে খেদমত করেন—তাদের সম্মান করি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

অনুসরণ করুন ঢাকাসংযোগ
ফলো করুন ↗