ঢাকা সংযোগ

ভিক্টোরিয়ার ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আড্ডা, কলেজ ওয়াইফাই ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও দেখার অভিযোগ

শেয়ার করুন

ভিক্টোরিয়ার ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আড্ডা, কলেজ ওয়াইফাই ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও দেখার অভিযোগ

ভিক্টোরিয়া সংবাদদাতা:
কুমিল্লার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ বেড়েছে। এতে করে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এসব বহিরাগত কিশোরদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা কলেজের ওয়াইফাই ব্যবহার করে মোবাইলে পর্ন ভিডিও দেখছে এবং বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন করে থাকে।
তবে তাদের উৎপাত বন্ধে কলেজ প্রশাসনের যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই। নেই তেমন কোনো পদক্ষেপ।

সম্প্রতি সরেজমিনে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন কিশোর গ্রুপ বেঁধে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখছে। তাদের মোবাইল ফোন কলেজের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ছিল। কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজ ছুটির পরও ওয়াইফাই চালু থাকায় বহিরাগতরা সহজেই সেটিতে যুক্ত হতে পারছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোরদের অন্তত ৫ জন জানান এটি নিরাপদ তাছাড়াও এখানে কেউ বাধা দেয় না। তাই এলাকার সব ছেলেরা এখানে বসে ভিডিও দেখে। এ সময় কিশোরদের একটি অংশ বলেন, কলেজ ছুটির পর ওয়াইফাই চলতে থাকে। আমাদের কাছে পাসওয়ার্ড আছে। তা ওয়াফাই আমরা কানেক্ট করতে অসুবিধা হয় না।

কিভাবে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড তারা পেলো এমন প্রশ্নে এক কিশোর অন্য কিশোরকে দেখিয়ে দেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।

তাদের আড্ডার অন্যতম স্থান ক্যাম্পাসের কলা ভবনের সামনের বাগান, থিয়েটারের সামনে, আমবাগান, অডিটোরিয়ামের পাশ, পরীক্ষা ভবনের চারপাশ, অর্থনীতি ভবনের সামনের অংশ এবং খেলার মাঠ এলাকায় বহিরাগতদের আড্ডা বেশি জমে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসলেও কলেজ প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেয়নি। অনেক শিক্ষার্থী জানান, বহিরাগতদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতরা কলেজ ক্যাম্পাসে অবাধে প্রবেশ করে কলেজের ওয়াইফাই ব্যবহার করে অশ্লীল ভিডিও দেখা ও মাদক সেবনে জড়াচ্ছে। এতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্য হারাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগে প্রশাসনের সঙ্গে কথা হলেও এখনও কার্যকর সমাধান হয়নি।

ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন জানান, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে কিছু বহিরাগত মাদকসেবীদের আড্ডা জমে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, একদল লোক কলেজের ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে অনলাইন গেম খেলছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে কলেজ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে আরও লাইট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় হস্তক্ষেপ থাকলে বহিরাগতদের মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর গাজী গোলাম মো. সোহরাব হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ২১ সদস্যের একটি টিম রয়েছে। এর আগে আমরা দুটি অভিযান পরিচালনা করেছি। বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঁঞা জানান, বহিরাগতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। পাশাপাশি কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অনুমতি ছাড়া বহিরাগত কেউ ক্যাম্পাসে ইফতার করতে না পারে। প্রয়োজনে বিষয়টি আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই লেখকের আরও সংবাদ পড়ুন।

সব লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *