
আলী হামজা
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েন।
সরেজমিনে বুড়িহাটী, প্রতাপপুর, চৌরাস্তা, বাগদা, মঙ্গলকোট, কন্দপপুর ও দোরমুটিয়া এলাকায় দেখা গেছে, ব্রি-২৮ জাতের অধিকাংশ ধান খেতে নুয়ে পড়ে আছে। অনেক স্থানে জমির পর জমি জুড়ে ধান মাটির সঙ্গে লেপ্টে গেছে, যা দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
বুড়িহাটী গ্রামের কৃষক সহরাব হোসেন, হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান বলেন, “হঠাৎ ঝড়ে আমাদের প্রায় সব ধান পড়ে গেছে। এখন যদি পানি জমে থাকে, তাহলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে। এতে ফলন কমে যাবে।”
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান প্রায় পাকার মুখে থাকায় এ সময়ের এমন দুর্যোগে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। অনেকেই শ্রমিক সংকটের মধ্যেও দ্রুত ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, “ব্রি-২৮ ধান পাকার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে পড়ে গেলেও চিটা হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। কিছু ক্ষেত্রে জমির উর্বরতা বেশি থাকা এবং অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে ধান লজিং হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
হঠাৎ এ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতির শঙ্কায় কেশবপুরের কৃষকরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















আপনার মতামত লিখুন :