ঢাকা সংযোগ

ভারতে গর্তে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সের ঝাঁকুনিতে প্রাণ ফিরে পেলেন ‘ব্রেন ডেড’ নারী

শেয়ার করুন

ভারতে গর্তে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সের ঝাঁকুনিতে প্রাণ ফিরে পেলেন ‘ব্রেন ডেড’ নারী

ভারতের উত্তর প্রদেশে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের কাছে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষিত এক নারী অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় হঠাৎ আবার শ্বাস নিতে শুরু করেছেন। পরিবারের সদস্যরা এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন।

বুধবার (১১ মার্চ) হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বেরেইলি-হরিদ্বার মহাসড়কে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভিনিতা শুক্লা নামের ওই নারী গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাড়ির কাজ করার সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বেরেইলির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং তিনি কার্যত ‘ব্রেন ডেড’ অবস্থায় আছেন।

বেঁচে থাকার আর কোনো আশা নেই—চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন কথা শুনে ভেঙে পড়েছিল ভিনিতার পরিবার। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে শেষকৃত্যের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর স্বামী কুলদীপ কুমার শুক্লা জানান, সেই সময় ভিনিতা শ্বাস নিচ্ছিলেন না, শুধু খুব দুর্বলভাবে হৃৎস্পন্দন চলছিল।

এই অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথে হাফিজগঞ্জ এলাকায় একটি বড় গর্তে পড়লে অ্যাম্বুলেন্সটিতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। সেই ধাক্কার পরই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা!

কুলদীপ জানান, গর্তে পড়ার পর অ্যাম্বুলেন্সটি জোরে দুলে ওঠে। ঠিক তার পরপরই ভিনিতা হঠাৎ স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেন। বিষয়টি দেখে পরিবারের সদস্যরা বিস্মিত হয়ে যান এবং দ্রুত শেষকৃত্যের সব প্রস্তুতি বন্ধ করে দেন।

এরপর তাঁকে দ্রুত নিউরোসিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নতুন করে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকদের মতে—প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার ফলে ভিনিতার শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে।

একদিনের মধ্যেই ভিনিতা অনেকটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। কুলদীপ কুমার শুক্লা এই ঘটনাকে ‘মৃত্যুকে জয় করা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এই ঘটনাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, সম্ভবত আগের হাসপাতালের নির্ণয়ে ভুল ছিল, অথবা ভিনিতা এমন একটি জটিল অবস্থায় ছিলেন যাকে ভুলভাবে ‘ব্রেন ডেড’ হিসেবে ধরা হয়েছিল। তবে পরিবারের কাছে এটি এক অলৌকিক প্রত্যাবর্তন—যেখানে রাস্তার একটি গর্তই ভিনিতার জীবন বাঁচিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই লেখকের আরও সংবাদ পড়ুন।

সব লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *