মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ — এই শপথকে সামনে রেখে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধিত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা জেলা দক্ষিণ শাখা।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় কেরানীগঞ্জের অমৃতপুরে অবস্থিত সায়মন মাল্টিটিউড কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর। কৃতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় এক অন্যরকম মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো কমিউনিটি সেন্টার।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু ফাতাহ মো. তুর্যের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি ইব্রাহিম মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, মেধা মহান আল্লাহ তায়ালার দেওয়া এক অমূল্য নেয়ামত। কিন্তু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতার পরিবর্তে দাসত্বের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। ফলে যথাযথ মূল্যায়নের অভাবে অসংখ্য মেধাবী ঝরে পড়ছে। তিনি বলেন, যে স্বপ্ন মানুষকে ঘুমাতে দেয় না, সেটাই প্রকৃত স্বপ্ন। তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় অপচয় না করে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলে ইনসাফের বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, মেধাবীদের শুধু পড়ালেখায় ভালো করলেই চলবে না, সততায় সমৃদ্ধ হতে হবে। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের দায়িত্ব নিতে হবে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এ দেশে সৎ, দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক তৈরির এক অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। মেধাবীদের নৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা জামায়াতের আমীর আব্দুর রহিম মজুমদার , অধ্যক্ষ মো. শাহিনুর ইসলাম, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।
