
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া আলোচনার একটি বিশেষ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে সই করছে, ততক্ষণ দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইরানের একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। তেহরান প্রস্তাব দিয়েছিল, আলোচনার প্রাথমিক ধাপে যুক্তরাষ্ট্র যেন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেয় এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেয়। এর বিনিময়ে তারা পরবর্তীতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসবে। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পারমাণবিক আলোচনা পরে করার শর্ত দিয়ে আগে সুবিধা নেওয়া ইরানের একটি কৌশল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “বোমাবর্ষণের চেয়ে নৌ-অবরোধ অনেক বেশি কার্যকর। ইরানের অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। তারা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও খারাপ হবে। কোনোভাবেই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।” ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন অবরোধ থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে চুক্তি করতে চাইছে। কিন্তু তিনি এখনই অবরোধ তোলার পক্ষপাতী নন, কারণ তার মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বন্ধ করা।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, অবরোধের কারণে ইরান তেল রপ্তানি করতে পারছে না। ফলে তাদের তেলের মজুত এবং পাইপলাইনগুলো ‘বিস্ফোরণের কাছাকাছি’ অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের অনেকে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তারা মনে করছেন, ইরান এখনই এত বড় সংকটে পড়েনি।
পর্দার আড়ালে অবশ্য সামরিক প্রস্তুতিও চলছে। জানা গেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ বিমান হামলার পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে। আলোচনার এই অচলাবস্থা ভাঙতেই মূলত অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলার ছক কষা হয়েছে। তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনো সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেননি। তিনি আপাতত যুদ্ধের চেয়ে অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধের মাধ্যমেই চাপ বজায় রাখা লাভজনক মনে করছেন। এরই মধ্যে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তাকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে এবং ক্যাপশনে লেখা ছিল— ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই’।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র বরাতে দেশটির একজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধের বিরুদ্ধে শিগ্গিরই নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান এ পর্যন্ত ধৈর্য দেখিয়েছে যাতে কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হয় এবং ট্রাম্প যুদ্ধ থামানোর সুযোগ পান। কিন্তু ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে। অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরান ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নিতে বাধ্য হবে বলে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন চরমে।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসি




















আপনার মতামত লিখুন :