মনিরামপুর(যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ক্রীড়া চর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা’ এখন কেবল একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কাগজে-কলমে অফিস এবং কমিটি থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে নেই কোনো উল্লেখযোগ্য ক্রীড়া কর্মসূচি। ফলে মাঠের ধুলোবালি আর অযত্নে হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের স্বপ্ন।
আজ (৬ই এপ্রিল) আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস হলেও মণিরামপুরে এর কোনো ছিটেফোঁটাও লক্ষ্য করা যায়নি। এক সময় মণিরামপুর থেকে বিভিন্ন ফুটবল এবং ক্রিকেটের নিয়মিত খেলোয়াড় তৈরি হতো। অথচ বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন তো দূরের কথা, স্থানীয় খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্যও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
আর খেলাধুলা আয়োজন না থাকায়, বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকে বসছে মোবাইল গেইম আর মা*দকের দিকে, যা বর্তমানে ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছে, মোবাইল গেইম, মা*দকের থেকেও হাজারগুন যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, দ্রুত এদেরকে খেলাধুলার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা উচিৎ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংস্থাটির একটি সুসজ্জিত অফিস কক্ষ থাকলেও সেটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে অথবা কেবল দাপ্তরিক কিছু কাজেই ব্যবহৃত হয়। ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা ভলিবল কোনো ইভেন্টই নিয়মিত আয়োজিত হচ্ছে না। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে সংস্থাটির কোনো ভূমিকা নেই। বরাদ্দ নিয়ে ধোঁয়াশা এবং কমিটির সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে এই স্থবিরতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।
উপজেলার একজন উদীয়মান ক্রিকেটার বলেন, “আমাদের প্র্যাকটিস করার সঠিক পরিবেশ নেই। ক্রীড়া সংস্থা থেকে কোনো সহযোগিতা বা দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না। অথচ পাশের উপজেলাগুলোতে নিয়মিত টুর্নামেন্ট হচ্ছে।” অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ক্রীড়াসংগঠকদের মতে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি আজ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্রীড়া সংস্থাকে সচল করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দ্রুতই নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে মাঠে খেলা ফেরানো হবে।
