২০০৮ সালের পর দীর্ঘ ১৬টি বছর আমাদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। দিল্লি আর মইন ইউ আহমেদের ছকে কষা সেই ষড়যন্ত্রের চড়া মূল্য দিয়েছে বাংলাদেশ। গুম, খুন, আয়নাঘর আর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। আজ যারা তরুণ ভোটার, তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের পছন্দসই প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সুযোগ কেবল একটি ভোট নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
নির্বাচনে আমাদের সামনে একটি বড় পরীক্ষা। মনে রাখবেন, কেবল ব্যালটে সিল মারাটাই দায়িত্ব নয়; কাদের বর্জন করতে হবে, তা জানা আরও জরুরি। যে বা যারা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর ছিল, যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়েছিল—তারা আজ যে রূপেই আসুক, তাদের প্রত্যাখ্যান করা প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
অনেকেই ‘জাতীয় সরকার’-এর কথা বলছেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, এই জাতীয় সরকারের মোড়কেই একসময় বাকশাল বা বিগত ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই খিচুড়ি মার্কা সরকার নয়, বরং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাই—যেখানে সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দেশের স্বার্থে কাজ করবে।
তবে রাজনীতিতে বিভাজন থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থে আমাদের ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনের পর সরকার বা বিরোধী দল—সবার কাছে আমাদের দাবি এই ৫টি ইস্যুতে এক এবং অভিন্ন থাকার:
১। সার্বভৌমত্ব রক্ষা: ভারতীয় বা বিদেশি আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় আমরা থাকব আপসহীন।
২। ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ: যেকোনো রূপে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রোধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।
৩। জুলাই গণহত্যার বিচার: প্রতিটি শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৪। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার: সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৫। নাগরিক অধিকার: ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও লিঙ্গ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকব।
