আন্তর্জাতিক

খামেনির মৃত্যু, কে ধরছেন ইরানের হাল

শেয়ার করুন

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় গণশোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ রাজপথে নেমে শোক প্রকাশ করছেন। শোকে স্তব্ধ বহু ইরানি। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ‘মহান নেতা’কে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলে অস্থায়ীভাবে তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেবে। এতে থাকবেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় সদস্য। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।এদিকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে বাড়তি কর্তৃত্ব দেওয়ার খবরও ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, আয়াতুল্লাহ খামেনি হামলা বা গুপ্তহত্যার কার হলে পশ্চিম এশিয়ার প্রতাবশালী দেশ ইরানকে টিকিয়ে রাখতে দেশকে নেতৃত্বে দেবেন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান। খামেনি নিজেই এ সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা বা গুপ্তহত্যার আশঙ্কা থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশকে টিকিয়ে রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিবেদনে আইআরজিসি কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যের বরাত দেওয়া হয়েছে।

খামেনি তেহরানের শাসনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরাধিকার নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি রাখা। যদি তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় বা তাকে হত্যা করা হয়, সেক্ষেত্রে দায়িত্ব যাবে তার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনদের একটি গোষ্ঠীর হাতে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এ তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও সামরিক কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা বা শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আলী লারিজানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত আগস্টে তাকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়। মূলত এই পরিষদই দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই লেখকের আরও সংবাদ পড়ুন।

সব লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *