সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন
সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শতবর্ষের গৌরবময় মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি এক শতাব্দী ধরে শিক্ষা বিস্তার, মানবিক মূল্যবোধ গঠন এবং আলোকিত মানুষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দীর্ঘ এই পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি অর্জন করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন—যা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও সাফল্যের উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে।
শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. শাহাদত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসকেএফ-এর পারচেজ অ্যান্ড সাপ্লাই চেইনের এজিএম তোহিদুল হক হাবি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. জসিম উদ্দিন।
আব্দুল্লাহ আল কাউছার ও রাকাব উদ্দিন শিশিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের হিসাবরক্ষক মো. মাকসুদ আলম মুসা, ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা মা’ পুরস্কারপ্রাপ্ত জ্যোৎস্না বেগম। সূচনা বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রানা। এছাড়াও বক্তব্য দেন ডা. নয়ন মিয়া, সাইদুর রহমান, তামিম আহমেদ সুজন, ওয়াহেদুর রহমান মুরাদ, তামিম আহমেদ অলিউল্লাহ, তফাজ্জল হোসেন রাকিব, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সারোয়ার হোসেন, ডা. ফজলুল হক, গোলাম কিবরিয়া ও শহীদুল হক প্রমুখ।
বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাংস্কৃতিক বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হয়।
বিকেলে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলনে অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন তাঁদের শৈশব-কৈশোরের সোনালি দিনগুলোর কথা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ মিলনমেলা যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়—এটি একটি অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রতীক। তারা বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ প্রতিষ্ঠান নতুন প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
শতবর্ষ পূর্তির এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা বিস্তারের এক শতাব্দীর গৌরবময় পথচলা পেরিয়ে সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবিষ্যতেও তার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।
