ঢাকা সংযোগ

রুয়েটের আবাসিক হলগুলোতে বকেয়া ৭২ লাখেরও বেশি

শেয়ার করুন

রুয়েটের আবাসিক হলগুলোতে বকেয়া ৭২ লাখেরও বেশি

তৌফিক | রুয়েট প্রতিনিধি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বিভিন্ন আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের হল ফি ও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় ৭২ লাখ টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বকেয়া জমে থাকায় তা আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে হল প্রশাসন। বকেয়া আদায়ে ইতোমধ্যে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুসহ বকেয়া আদায়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন আবাসিক হলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। শহীদ লে. সেলিম হলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মোট বকেয়া ১৩ লাখ ২২ হাজার ৮৮০ টাকা। শহীদ আব্দুল হামিদ হলে বকেয়া রয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে প্রায় ১১ লাখ টাকা।

এছাড়াও শহীদ শহিদুল ইসলাম হলে প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা; ছাত্র হল–১ এ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা; টিনশেড হলে গত তিন থেকে চার মাসের গড়ে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ছাত্রী হল–২ এ প্রায় ১ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে ছাত্র হল-২ এ এই বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি এবং ছাত্রী হল–১ এ বর্তমানে কোনো বকেয়া নেই বলে সংশ্লিষ্ট হল ইনচার্জ সূত্রে জানা গেছে।

বিপুল পরিমাণ এ বকেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “বকেয়া পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যে সব হলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর কিছু শিক্ষার্থী তাদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। হলের নীতিমালা অনুযায়ী তিন মাসের বেশি বকেয়া রাখার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে ছয় মাসেরও বেশি সময়ের বকেয়া আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, এ সমস্যার সমাধানে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি হলে বেতন বকেয়া থাকলে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন সুবিধা বাতিলের বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হয়েছে। আগামী মাস থেকেই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, অনলাইন হল কুপন এবং সব ধরনের পেমেন্ট অনলাইনে চালু হবে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বকেয়া রাখার সুযোগ থাকবে না বলে আশা করছি। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনলাইন পেমেন্ট ও নিবন্ধনের নতুন ব্যবস্থা চালু হলে হল ফি আদায়ের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তবে আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের হলের বেতন তিন মাসের বেশি বকেয়া থাকলে সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইন থাকলেও এই বিষয়ে শিথিলতা বকেয়া বৃদ্ধিতে অনেকাংশে ভূমিকা রাখছে বলে মতামত সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য সরকার কর্তৃক বাৎসরিক বরাদ্দে হলের খাতে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মেরামত ছাড়া কোনো বাজেট থাকে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে হলের মেস ব্যবস্থা সহ অন্যান্য বিষয়াদির খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তবে বকেয়া পরিশোধ ও নিয়মিত ফি প্রদান করলে এ অবস্থার উন্নতি সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা।

অনলাইন ডেস্ক

এই লেখকের আরও সংবাদ পড়ুন।

সব লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *