ঢাকা সংযোগ

পাবিপ্রবিতে (২০২৫-২০২৬) শিক্ষাবর্ষের ছয় শতাধিক নবীন ছাত্র-ছাত্রীকে বরণ করল ছাত্রদল

শেয়ার করুন

পাবিপ্রবিতে (২০২৫-২০২৬) শিক্ষাবর্ষের ছয় শতাধিক নবীন ছাত্র-ছাত্রীকে বরণ করল ছাত্রদল

মাদকমুক্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে ছয় শতাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত পাবনা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) প্রাঙ্গণে ‘নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাকসুদুর রহমান সুমিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম উল হাসান (কাইয়ুম), নূরুজ্জামান চন্দন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. বায়েজিদ শ্রাবণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কে. এম. তারিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও ছাত্রদলের সংগীত পরিবেশন করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও বক্তব্য দেওয়া হয়। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

পড়াশোনা ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে শ্যামল মালুম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

যারা চাকরি করতে চান, তাদের প্রথম বর্ষ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করার পরামর্শ দেন তিনি। বিভাগীয় পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় চাকরির প্রস্তুতিতে দেওয়ার কথাও বলেন।

গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আইইএলটিএস ও টোফেল -এর মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান

পাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। ভর্তি পরীক্ষায় পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়ায় কেউ হতাশ হলে সেটিকে ব্যর্থতার শেষ ধাপ হিসেবে না দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় কোনো ছাত্রসংগঠন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে নিজেরা জানার ও পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানান মুজাহিদ হোসেন।

নিরাপদ ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবি

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ করার বিষয়টি তুলে ধরেন ছাত্রদলের নেতারা।

মুজাহিদ হোসেন বলেন, এর আগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৪ টি দাবি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় ছিল।

এ ছাড়া জিমনেশিয়াম, মেডিকেল সেন্টার ও লাইব্রেরির আধুনিকায়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

‘নিজের পরিচয় তৈরি করতে হবে’

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা নূরুজ্জামান চন্দন নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা, দক্ষতা, গবেষণা ও কাজের মাধ্যমে পরিচিতি তৈরি করা উচিত।

চাকরির বাজার নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে দক্ষতা ও গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি গবেষণা বরাদ্দ, উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়েও বক্তব্য দেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাকারিয়া মাহদিয়া ও আবির হোসেন।

জাকারিয়া মাহদিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এ সময় নিজেদের যোগ্যতা তৈরি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত মূল্যবোধ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

তিনি সততা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে জ্ঞানচর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যাশা জানান।

এই ছাড়াও পাবিপ্রবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যার ক্ষেত্রে ছাত্রদল ভবিষ্যতেও কথা বলবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের জানার ও পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পড়াশোনা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বক্তব্য দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানানোর মধ্য দিয়ে নবীনবরণ পর্ব শেষ হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই লেখকের আরও সংবাদ পড়ুন।

সব লেখা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *