চিকিৎসা পেশায় স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডা. দিদার পাঠান। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো ধরনের গিফট গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে তিনি এলাকায় প্রশংসিত হয়েছেন।
সম্প্রতি জয়পাড়া ক্লিনিকে তার চেম্বারের সামনে টানানো একটি নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে “কোন ধরণের গিফট নিয়ে ভিজিট করা সম্পূর্ণ নিষেধ” আদেশক্রমে, ডা. দিদার পাঠান ইমার্জেন্সী মেডিকেল অফিসার, জয়পাড়া ক্লিনিক।
জানা গেছে, ডা. দিদার পাঠান MBBS (ডি.ইউ) ও CMU (আল্ট্রা) ডিগ্রিধারী একজন চিকিৎসক। তার BMDC রেজিস্ট্রেশন নম্বর A-115350। তিনি প্রতি শনি থেকে বুধবার পর্যন্ত রোগী দেখেন।
দেশে দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের বিভিন্ন ধরনের উপহার, ট্যুর, সেমিনার সুবিধা ও প্রচারণামূলক সামগ্রী দেওয়ার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। তবে এই “গিফট কালচার” চিকিৎসা সেবার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ডা. দিদার পাঠান বলেন, একজন ডাক্তারের প্রকৃত প্রাপ্তি হওয়া উচিত রোগীর সুস্থতা ও পেশাগত সম্মানী, কোনো ধরনের উপহার নয়।
তিনি আরও জানান, কোম্পানির প্যাড, কলম, ক্যালেন্ডার, ট্যুর বা সেমিনারের খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ রোগীর উপরই চাপ পড়ে। কারণ এসব ব্যয় ওষুধের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত করে আদায় করা হয়।
গিফট কালচার বন্ধে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন ১. ওষুধের দাম কমলে কোম্পানির অতিরিক্ত মার্কেটিং খরচ কমলে ওষুধের মূল্যও কমানো সম্ভব হবে। ২. প্রেসক্রিপশন হবে আরও স্বচ্ছ চিকিৎসক রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ লিখবেন, কোনো কোম্পানির প্রভাব ছাড়াই। ৩. রোগীর আস্থা বাড়বে মানুষ বিশ্বাস করবে, চিকিৎসক শুধুমাত্র রোগীর কল্যাণের জন্যই চিকিৎসা দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ডা. দিদার পাঠানের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসা খাতে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সচেতন মহলের দাবি, দেশের অন্যান্য চিকিৎসকরাও যদি এ ধরনের নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ঔষধ কোম্পানিগুলো গিফট সংস্কৃতি থেকে সরে আসে, তাহলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
