যৌন হয়রানির অভিযোগে মনিরামপুরে শিক্ষক আটক
ছাত্রীদের গণ-অনশন, প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার
মামুনুর রশিদ খান মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে গণ-অনশন শুরু করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ করতে ভয় পেত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সোমবার সকালে ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এরপর তারা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণ-অনশন শুরু করে। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন প্রত্যাহার করে। পরে পুলিশ ইকরামুল ইসলামকে আটক করে।
এ ঘটনায় মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অনশনের খবর পেয়ে তাঁরা বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
