
সোহানুর হোসেন সোহান
শরিয়তপুর প্রতিনিধি:
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণায় দেশজুড়ে পরিবহন ও নিত্যপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরকারের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বাইক চালক মানিক মিয়া, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “সারাদিন রাইড শেয়ার করে যা আয় করি, তার অর্ধেকের বেশি চলে যায় তেলে। এখন দাম বাড়লে পরিবারের খরচ চালানোই দায় হয়ে পড়বে। আমাদের মতো সাধারণ চালকদের ওপর এই সিদ্ধান্তের চাপ অপরিসীম।”
একই সুর শোনা গেল পণ্যবাহী ট্রাক চালক বাবু দেওয়ানের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “ট্রাক চালানোর খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তেলের দাম বাড়লে শুধু আমাদের ভাড়া বাড়ে না, বাজারের প্রতিটি পণ্যের দামও হু হু করে বেড়ে যায়। এতে শুধু আমরা নই, সাধারণ মানুষও বিপাকে পড়েন। সরকারের উচিত আমাদের মতো পেশাজীবীদের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা।”
কৃষি পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই এই মূল্যবৃদ্ধি একটি মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়লে ক্ষুদ্র ব্যবসার মুনাফা কমে যাবে, যার ফলে বাজারে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই না দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের জীবনমান রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর বা শুল্ক কমিয়ে জনগণের ওপর বাড়তি এই চাপ কমানো এখন সময়ের দাবি।




















আপনার মতামত লিখুন :