
তাকিনুল ইসলাম
লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তরুণ সাংবাদিক ও দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক আমার সকাল’ এর রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি ও অনলাইন মাল্টিমিডিয়া ‘প্রজন্ম ২৪’ এর লক্ষ্মীপুর জেলার প্রতিনিধি আব্দুল আহাদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩০ মে) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, এ ঘটনা শুধু একজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলাই নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য সংগ্রহের অধিকারের ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আহাদের জানান, একটি ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমি শনিবার (৩০ মে) রাত ১০ ঘটিকায় বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় গেলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমাকে বাধা দেয় এবং জিজ্ঞেস করে তুমি কে? তখন আমি সাংবাদিক পরিচয় দেই এবং সাংবাদিকতা পেশার পরিচয়পত্র দেখাই। এরপরই কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। তখন আমি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল করিম মিঠুকে দেখতে পেয়ে তার দিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাই। তিনি কিন্তু তিনি হামলাকারীদের থামাতে পারেনি, পরবর্তীতে পুলিশ আমাকে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করে প্রথমে ব্যার্থ হলেও পরবর্তীতে আমি ছুটে গিয়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু হামলাকারীরা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ওই সময়ের ধারণ করা একটি ভিডিও সহ আমার প্রয়োজনীয় তথ্য মোবাইল থেকে মুছে দেয়। এমতাবস্থায় আমি গুরুতর আহত হয়ে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি এবং বিভিন্ন সাংবাদিক নেতাদের জানাই।
পরদিন সকালে আমি খবর পাই আমার ফোন রায়পুর থানায় এএসআই মঞ্জুর হোসেনের কাছে জব্দ আছে। আমি থানায় মোবাইল আনতে গেলে এএসআই মঞ্জুর হোসেন আমার ফোনের লক খুলতে বলে। এক পর্যায়ে লক খুলে আমার ফোন চেক করে। পরবর্তীতে আমি মোবাইল নিয়ে চলে আসি এবং থানায় অভিযোগ করতে যাই। কিন্তু থানার কর্তব্যরত অফিসার আমার অভিযোগ নেয়নি এবং ওসির সাথে পরামর্শ করতে বলে। কিন্তু ওসি ছুটিতে থাকায় আমি তদন্ত অফিসারের কাছে আমার অভিযোগ পত্রটি দিয়ে আসি।
সাংবাদিক আব্দুল আহাদের দাবি, তার মোবাইল ফোনে থাকা একাধিক ডকুমেন্ট, তথ্য-উপাত্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে ফেলায় তার পেশাগত কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মতে, একজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলা, তার তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। যদি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হয়, তবে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঘটনার পর থেকে রায়পুরের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি পুলিশ কর্তৃক একজন সাংবাদিকদের মোবাইল চেক করায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের অভিমত, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। তাই সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিকের ওপর হামলা কিংবা তথ্য-উপাত্ত নষ্ট করার মতো অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা না গেলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠতে পারে।




















আপনার মতামত লিখুন :