কেশবপুরে আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেফতার
আলী হামজা, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার পৃথক এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার ৫ নম্বর মঙ্গলকোট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মাসুদ (৫০) এবং ১০ নম্বর সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ বিশ্বাস (৫৪)।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত আফছার আলী সানার ছেলে মাসুদুজ্জামান মাসুদ এবং সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত চাঁদ আলী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রশিদ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১১ জুন উপজেলার পরচক্রা ও সোনাতলা এলাকায় সড়কের ওপর পৃথক দুটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওই মিছিলের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় উপজেলার মির্জানগর গ্রামের আকরাম হোসেন বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করে কেশবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি কেশবপুর থানার মামলা নং-৮ হিসেবে রুজু করা হয়।
মামলার পর থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও আব্দুর রশিদ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান (৬০), ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য রফিকুল ইসলাম (১৮), যুবলীগের সদস্য আব্দুল জলিল (৪৫), ছলেমান সরদার (৪৫), পৌর যুবলীগের সদস্য নজরুল ইসলাম (৩৮), সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম (৪২), সদস্য সরোজিত দাস (৪১), মুজাহিদ হোসেন (১৯) এবং মাসুদ রানা (২০)।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, “মঙ্গলকোট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান মাসুদ এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের রোববার সকালে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
